বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি:
বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশের সবগুলো বিভাগের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও কলেজপর্যায়ে সংবাদদাতা/প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা অনলাইন সংবাদ প্রকাশনার সাথে সংবাদ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করতে ইচ্ছুক তারাই কেবল এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করতে পারবেন। আগ্রহী দক্ষ সংবাদ প্রতিনিধিদের আমাদের কাছে ই-মেইল মারফত সিভি জমা দিতে হবে। আপনার সিভি জমা দেয়ার পর salmankoeas@gmail.com থেকে প্রতিনিধি বাচাই কার্যক্রমে নিয়োজিত টিম আপনাদের সিভি পর্যালোচনা করে ই-মেইল মারফত বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে salmankoeas@gmail.com এর সাথে সংবাদ প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করতে পারবে কি না তা নিশ্চিত করবে। মোবাইল: ০১৭১১-০০৭২৭২
ব্রেকিং নিউজ :
বিজয়নগরে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপন।। দৈনিক ক্রাইমসিন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সদর উপজেলা কমিটি ঘোষণা।। দৈনিক ক্রাইমসিন মাধবপুরে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন ।। দৈনিক ক্রাইমসিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ সম্পাদক হলেন শান্ত ।। দৈনিক ক্রাইমসিন বিএনপিকে প্রতিহত করতে হবে প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপি।। দৈনিক ক্রাইমসিন মাধবপুরে পঙ্গু রহিমা বেগমের একটি ঘরের জন্য আকুতি।। দৈনিক ক্রাইমসিন মেসির জন্য সিংহের মতো লড়বে আর্জেন্টিনা ।। দৈনিক ক্রাইমসিন শায়েস্তাগঞ্জ থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।। দৈনিক ক্রাইমসিন মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে দুই মন্ত্রীর শ্রদ্ধা ।। দৈনিক ক্রাইমসিন সারাদেশে আগামী ১৫ দিন পুলিশের বিশেষ অভিযান।। দৈনিক ক্রাইমসিন

আখাউড়ায় হাসপাতালে ভাসমান এক নারী জমজ দুই সন্তান জন্ম দিলেন-দৈনিক ক্রাইমসিন

লায়ন রাকেশ কুমার ঘোষ আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

রুমা আক্তারের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলায় । সৎ মায়ের অত্যাচারে ছোট থাকতেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হয়। তারপর বেড়ে উঠা এখানে সেখানে। কয়েক বছর আগে বিয়ে হয় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার এক যুবকের সাথে। স্বামীকে নিয়ে থাকতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। কয়েক মাস আগে স্বামী বড়
সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। সে জানে না তার স্বামী এখন কোথায়।
৩০ বছর বয়সি রুমা আক্তারের কোলজুড়ে এখন ফুটফুটে দুই সন্তান। জিলহজ মাসকে সামনে রেখে চিকিৎসকদের পরামর্শে সন্তানদের নাম রেখেছেন হাসেন ও হোসেন। নিজে এখানে সেখানে বেড়ে উঠলেও ছেলে সন্তানদের কিভাবে লালন পালন করবেন সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রুমা।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই মুহুর্তে রুমাকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে হয়তো হাসপাতালে তাকে বেশিদিন রাখা সম্ভব হবে না। দুই সন্তানসহ রুমা এখন ভালো আছে। আখাউড়ার খড়মপুরে আসার সূত্র ধরে দিনমজুর ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে রুমার বিয়ে হয়। এক কন্যাসন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিলো তার সংসার। দ্বিতীয়বার গর্ভধারণের পর প্রায় নয় মাস আগে কন্যাকে নিয়ে চলে যান স্বামী ইব্রাহিম। তখন মাথায় বাজ আকাশ ভেঙ্গ পড়ে। তার পর সে ভাড়া বাসা ছেড়ে আশ্রয় নেন আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে। অন্যের কাছে হাত পেতে চলতো পেট। সুমি আক্তার নামে এক নারীকে মা ডাকতেন। সেই নারী বুধবার রাত ১১টার দিকে তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন, সেখানেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দুই ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় রুমা আক্তার। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, দুই সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন রুমা আক্তার। তবে মুখে গোমড়াভাব। সন্তানদের নাম কি রেখেছেন জানতে চাইলে মুখে হাসির ভাব। পরক্ষণেই তা মিটিয়ে যায় সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা জানতে চাইলে। হাসপাতালের ধাত্রী (মিডওয়াইফ) তানিয়া আক্তার ও রোকসানা আক্তার বলেন,‘প্রসব করাতে গিয়ে দেখি টুইন বেবি। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করানোয় প্রসূতি নারীরও বিষয়টি জানা ছিলো না। সমস্যা দেখা দেয় যখন দেখা যায় ওই নারীর এক সন্তান গর্ভে উল্টো অবস্থায় আছে। আগে এক সন্তান স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ায় সৃষ্টিকর্তার দয়ায় ভালোভাবেই প্রসব করানো যায়। রাত ১১টা ১০ মিনিট থেকে ২০ মিনিটের সময় ওই নারীর দ্বিতীয় ’সন্তান প্রসব করেন। হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) সানজিদা মাহমুদ বলেন, ‘মা ও শিশু দু’জনেই ভালো আছে। এক শিশুর ওজন কম হওয়ায় তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে দুই সন্তানকে নতুন কাপড় দেওয়াসহ সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ চিকিৎসক নুরে সাবা বলেন, ‘অসহায় ওই নারীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রসব হওয়ায় আমি আনন্দিত। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় এ কাজটি সহজে করা গেছে।’ এজন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। সুমি আক্তার নামে এক নারী বলেন, ‘আমাকে মা ডাকে রুমা। মঙ্গলবার রাতে আমি একজনের জন্য ভাত নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কান্না করতে দেখি। তখন সে সমস্যা হচ্ছিল বলে জানায়। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আখাউড়া হাসপাাতলে নিয়ে যাই। এখানে সকলের আন্তরিকতায় ও সহযোগিতায় রুমা দুই পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়।’ রুমা আক্তার বলেন, ‘মেয়েটাকে নিয়ে স্বামী চলে যাওয়ার পর স্টেশনে আশ্রয় নেই। ছোট বেলা থেকেই আমি বাবা-মা হারা। সৎ মায়ের অত্যাচারে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। আমাদের পাঁচ বোনের মধ্যে এক বোন মারা গেছে। বাকিদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তিনি জানান, নবজাতকদের নিয়ে কোথায় যাবেন সেটা জানেন না। সবাই মিলে যেন অন্তত একটা মাথা গোঁজার ঠাঁয় করে দেয় সেই অনুরোধ রাখে সে। হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শে সন্তানদের নাম হাসেন ও হোসেন রেখেছেন বলে জানান।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিমেল খান বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ওই নারী ও নবজাতকদের সব ধরণের সেবা দেওয়া হচ্ছে। সবাই আন্তরিকভাবেই অসহায় ওই নারী ও তার সন্তানদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত